নববর্ষের প্রথমদিন বীরভূম জেলা পুলিশের উদ্যোগে "মাতৃ স্নেহ" প্রকল্পের উদ্বোধন হয়। প্রথম দু-তিন দিনেই বীরভূম জেলা পুলিশের এই উদ্যোগ অনেকটাই সফল। তার মধ্যে কয়েকটি তুলে ধরা হলো:
▪️ শান্তিনিকেতন নিবাসী অমিতাভ সিংহ কাজের সুত্রে বাইরে থাকেন। তার বছর ৯-এর পুত্র মায়ের সাথে লায়েক বাজার সেনাপট্টিতে বসবাস করে। লকডাউনে পুত্র সামন্তকের প্রয়োজনীয় খাওয়ার আনার জন্যে তার মা "মাতৃ স্নেহ" কন্ট্রোলরুমে জানালে শান্তিনিকেতন থানার "মাতৃ স্নেহ" মহিলা পুলিশকর্মীরা প্রয়োজনীয় দুধের প্যাকেট,কেক,নুডুলস কিনে দিয়ে আসে তার মায়ের হাতে।
▪️"মাতৃ স্নেহ" গাড়ি লোহাগড়ের রাস্তায় যাওয়ার সময় সেখানকার বাসিন্দা ঊর্মিলা বাউড়ী তার বাচ্চার প্রয়োজন "মাতৃ স্নেহ" পুলিশ কর্মীদের জানালে, তৎক্ষণাৎ তারা হর্লিক্স কিনে এনে বিনোদ বাউড়ীর একবছরের মেয়ে দিশা বাউড়ীর হাতে তুলে দেয়।
▪️বোলপুর মকরমপুরের বাসিন্দা মাননীয় হিমাদ্রি চক্রবর্তীর খবরে বোলপুর থানার "মাতৃ স্নেহ" কর্মীরা তার সন্তানসম্ভবা মেয়ে শ্রীমতি মেঘনা চক্রবর্তী মহাপাত্র কে বোলপুর নার্সিংহোমে নিয়ে যায়।গতকাল বিকেল ৫.০৭ মিনিটে মেঘনা দেবী এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেয়।
▪️ সিউড়ি নিবাসী মহঃ বাবর আলী, মহঃ এনামুল হক এবং সুলতানা ইয়াসমিন তাদের সন্তানের প্রয়োজনে সিউড়ি সদর হাসপাতালে যাওয়ার কথা "মাতৃ স্নেহ" কন্ট্রোলরুমে জানালে সিউড়ি থানার "মাতৃ স্নেহ" কর্মীবৃন্দরা তাদের সিউড়ি সদর হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং কাজ হয়ে গেলে পুনরায় তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দেয়।
▪️রামপুরহাট গান্ধী পার্কের বাসিন্দা মধু মঙ্গল বিশ্বাস তার ৬ বছরের মেয়ে পিউশার প্রয়োজনীয় কিছু ঔষধ রামপুরহাটে না পেয়ে "মাতৃ স্নেহ" কন্ট্রোলরুমে জানালে রামপুরহাট থানার মাতৃস্নেহ কর্মীবৃন্দ উক্ত ঔষধগুলি মুর্শিদাবাদ জেলার সালার থানা এলাকা থেকে সংগ্রহ করে মধুমঙ্গল বাবুর হাতে তুলে দেয়।
▪️সাঁইথিয়া ওয়ার্ড নং-১১ কামারপাড়া নিবাসী কুন্তল সাহা তার ৪৫ দিনের শিশুকে ডাক্তারখানায় নিয়ে যাওয়ার কথা "মাতৃ স্নেহ" কন্ট্রোলরুমে জানালে, সাঁইথিয়া থানার মাতৃস্নেহ কর্মীরা কুন্তল বাবুর স্ত্রী ও তার ৪৫ দিনের শিশুকে ডাঃ মনিরঞ্জন আচার্য মহাশয়ের কাছে নিয়ে যায় এবং চিকিৎসা হয়ে গেলে তাদের পুনরায় বাড়িতে পৌঁছে দেয়।
▪️দুবরাজপুর নিবাসী মহেশ দাস তার ৯ বছরের সন্তান সোনার জন্য মাতৃস্নেহ কন্ট্রোল রুমে কল করে "নেস্টোজেন-২" এর প্রয়োজনীয়তা জানালে দুবরাজপুর থানার "মাতৃ স্নেহ" কর্মীবৃন্দ তৎক্ষণাৎ "নেস্টোজেন-২" সংগ্রহ করে তা মহেশ বাবুর বাড়িতে দিয়ে আসে।
▪️বোলপুর নিবাসী সুরজিৎ শর্মা রাত ১.০৫ মিনিটে মাতৃস্নেহ কন্ট্রোল রুমে তার সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আর্জি করলে বোলপুর মাতৃস্নেহ কর্মী বৃন্দ দেরি না করে সুরজিৎ বাবুর স্ত্রী খুশি দেবীকে বোলপুর হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে আসে।
এছাড়াও বাচ্চাদের ভ্যাকসিন সংক্রান্ত বিষয়ে বহু কল আমাদের কাছে এসেছে। উক্ত ভ্যাকসিন গুলির ব্যাপারে ইতিমধ্যেই জেলার উচ্চপদস্থ স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সাথে কথা বলাও হচ্ছে।
ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য যে পূর্বে ঘোষিত পৌরসভা এলাকাভুক্ত ৬টি থানা ছাড়াও আরো ৪টি থানা যথাক্রমে শান্তিনিকেতন, ময়ূরেশ্বর, মহ: বাজার ও খয়রাশোলে পৌঁছে গেছে এই প্রকল্প। খুব শীঘ্রই গোটা জেলার সকল থানা এলাকায় এই প্রকল্প পৌঁছে যাবে। এছাড়াও পরিকল্পনা করা হয়েছে মাতৃস্নেহ কর্মীবৃন্দ এবার থেকে নিজের এলাকার সমস্ত পরিবার যেখানে ৬মাস থেকে ১০বছরের শিশু রয়েছে সেগুলি শনাক্ত করে তাদের কাছে যাবে এবং তাদের খবরাখবর রাখবে। বর্তমানে কিছু কিছু এলাকায় এই কাজ শুরুও হয়েছে। আপনাদের জ্ঞাতার্থে আবার জানানো হচ্ছে মা ও শিশুদের জন্য বীরভূম জেলা পুলিশের এই বিশেষ উদ্যোগ "মাতৃ স্নেহ" এর সুবিধা পেতে আপনারা যোগাযোগ করুন ৭৬০২৬৭৫৩১১ এবং ৭৬০২৬৭৫৩২২ নম্বরে।আপনারা নিশ্চিন্তে, নিরাপদে, ঘরে থাকুন। সুস্থ থাকুন। ধন্যবাদ।
#মানুষের_সাথে_মানুষের_পাশে
#বীরভূম_জেলা_পুলিশ