আপনার মনে জমে থাকা কিছু প্রশ্ন ও তার উত্তর ।
➖➖➖➖➖➖➖➖
১. #NICED_এর_প্রধান শান্তা দত্ত বললেন 42500 খানা কিট কেন্দ্রীয় সরকার পাঠিয়েছে । এটা কি সত্যি যে এতগুলো কিট বাংলায় আছে ?
না এগুলো বাংলার একার জন্য না । যেহুতু নাইসেড পূর্ব ভারতের নোডাল অফিস, তাই গোটা পূর্ব ভারতের যাবতীয় সরঞ্জাম কলকাতায় এসে পৌঁছায় এবং সেখান থেকেই ডিস্ট্রিবিউশন হয়।
এর মানে কি জানেন ? আসল তথ্য জানতে চান ??
ওই 42500 কিটের পুরোটা পূর্ব ভারতে ভাগ করে দেওয়ার জন্য পাঠানো । যার মধ্যে বাংলা পেয়েছে মাত্র 7500 খানা । একটা অদ্ভুত বিষয় জানেন ?? ১৩ ই এপ্রিল পর্যন্ত বিহার 11 হাজার টেস্ট কিট পেয়েছে ? হ্যাঁ ওই 42500 থেকে ! সুতরাং নাইসেডে এসেছে মানে যারা সেটাকে বাংলার সম্পত্তি ভাবছেন তারা ভুল করছেন!
লিঙ্ক ১: https://m.timesofindia.com/city/kolkata/bengal-test-numbers-rise-after-talks-between-govt-and-niced/articleshow/75130638.cms
লিঙ্ক: ২: https://m.timesofindia.com/city/patna/covid-19-state-gets-kits-from-icmr-to-test-11k-more-samples/articleshow/75035633.cms
তার আরো একটি বক্তব্যের পেছনে থাকা আসল সত্য তুলে ধরি...
➖➖➖➖➖➖
২. #তিনি_বললেন_আগে তার কাছে প্রতিদিন 70 থেকে 80 টা স্যাম্পেল আসছিল পরীক্ষার জন্য.. এখন নাকি সেটা কমে আটটা–নটা হয়েছে ??
এখন তিনি এই বক্তব্য রাখার পরেই বাম আর রাম মিলিতভাবে চিৎকার শুরু করে দিয়েছে বাংলায় টেস্ট কমে গেছে ! এবার আসল তথ্য জানুন !
25 শে মার্চ পর্যন্ত কেবল নাইসেডেই বাংলার যাবতীয় পরীক্ষা হতো । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার অনুরোধ করার পরে কেন্দ্র আরো তিনটি পরীক্ষা কেন্দ্র বাড়ায় । কিন্তু বাকি তিনটি ছিল শিলিগুড়ি, মুর্শিদাবাদ এবং মেদিনীপুরে । ফলতঃ সবচেয়ে বেশি কেস আসা কলকাতা এবং তার সন্নিকট এলাকার যাবতীয় পরীক্ষা কেন্দ্রীয় সরকারের নাইসেডেই হত । ঠিক তখন তাদের কাছে রোজ রাজ্য সরকার 80 থেকে 90 টাকা পাঠাত ।
এরপরে কেন্দ্রীয় সরকার টেস্ট সেন্টার এর অনুমতি দেয়। বেসরকারি কিছু কেন্দ্রসহ এসএসকেএম এবং স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিন এই অনুমোদন পায় । ফলে রাজ্য সরকারের পাঠানো স্যাম্পেল গুলি বিভিন্ন কেন্দ্রে ভাগ হয়ে যায় । এবার শুনুন শান্তা দেবীর বক্তব্যের পেছনে লুকিয়ে থাকা আসল সত্য ! নাইসেড যেদিন মাত্র নয় খানা স্যাম্পেল পেয়েছে বলে দাবি করে, ঠিক একই দিনে স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিন ,৭০ টা স্যাম্পেল পায় এবং এসএসকেএমের কাছে নব্বইটা স্যাম্পেল পাঠায় রাজ্য সরকার । অর্থাৎ সেইদিন মোট 169 টা স্যাম্পেল রিলিজ হয় । কিন্তু প্রচার পেল মাত্র নটা ! যেহেতু সেটা কেন্দ্রীয় সরকারের নাইসেডে গেছে ! বাকি জায়গা গুলোর কথা কেন উনি বললেন না ? কারণ উনি বললে কেন্দ্রীয় সরকার তার চাকরিটা খেয়ে নেবে !
➖➖➖➖➖➖
৩. #এখন_প্রশ্ন_হলো রাজ্যে দেশের তুলনায় টেস্ট কম কেন হচ্ছে ??
কারণ পশ্চিমবঙ্গ ভারতের মধ্যে প্রথম রাজ্য যারা করো না কে কেন্দ্র করে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল । আর্লি মুভার সব সময় অ্যাডভান্টেজ পায় । রাজ্য সরকার 582 খানা কোয়ারেন্টাইন সেন্টার স্থাপন করে প্রায় 65 হাজারের মত মানুষকে সমাজ থেকে আলাদা করে দেয় ।
এই 65 হাজার মানুষ কারা জানেন ?
A. যারা বিদেশ থেকে এসেছেন বা ট্রাভেল টিস্ট্রি আছে ।
B. যে সমস্ত মানুষেরা বিদেশ থেকে আসা লোকজনের সংস্পর্শে এসেছেন
C. যে সমস্ত ডাক্তারবাবু বা নার্স দিদিরা কোনো করোনা পেশেন্টের সংস্পর্শে এসেছেন ।
D. বাজে সমস্ত সাধারণ মানুষ কোন করোনা রোগীর সংস্পর্শে এসেছেন ।
যেহেতু এরাই করোনা ছড়ানোর উৎস, তাই রাজ্য সরকার আগেভাগেই এদেরকে আলাদা করে দিতে পাড়ার সুফাল পাচ্ছে ।
এখন কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে থাকা এই মানুষগুলোর শরীরে যখনই কোন উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, তৎক্ষণাৎ তাদেরকে করোনা স্পেশাল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হচ্ছে এবং তখনই তাদের টেস্ট হচ্ছে । রিপোর্ট পজিটিভ এলে চিকিৎসা হচ্ছে এবং নেগেটিভ এলে তাদের বাড়ি ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে । এখন রাজ্য সরকার যেহেতু আগেভাগে সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিল তাই বেশি মানুষের মধ্যে এই করোনা ছড়াতে পারেনি, এবং ঠিক সেই কারণেই খুব কম মানুষের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, ফলে স্বাভাবিকভাবেই টেস্ট কম হচ্ছে ।
টেস্ট কিট নিয়ে অভিযোগ একা বাংলার নয় অন্যান্য রাজ্যেরও । লিংক:
https://www.anandabazar.com/national/coronavirus-in-india-sufficient-health-kits-not-supplied-congress-led-cms-alleges-against-centre-1.1135998?ref=sectionpage-more-stry
কেরালা পুনে থেকেও টেস্ট কিট পেয়েছে। লিঙ্ক:
https://www.anandabazar.com/national/coronavirus-in-india-sufficient-health-kits-not-supplied-congress-led-cms-alleges-against-centre-1.1135998?ref=sectionpage-more-stry
➖➖➖➖➖➖
৪. #কাদের_টেস্ট_করা_হবে সেটাও কি কেন্দ্রের নির্দেশে ঠিক হয় ?
হ্যাঁ । সেটা কেন্দ্র সরকার ঠিক করে ।
এরই সাথে সম্পর্কিত আরেকটা তথ্য আপনাদের জেনে রাখা দরকার । এটা দেবাংশু ভট্টাচার্য বলছে না, কেন্দ্রীয় সরকারের আইসিএমআর বলছে । এই আইসিএমআর এর নির্দেশ মেনে বিভিন্ন রাজ্যের টেস্ট করা হচ্ছে । গত 9 এপ্রিল পর্যন্ত আইসিএমআর এর নির্দেশ ছিল একমাত্র বিদেশ থেকে আসা লোকজন এবং তাদের সংস্পর্শে আসা লোকজনের ই পরীক্ষা করা যাবে । যেহেতু ভারতের টেস্ট কিট কম, তাই যাকে ইচ্ছা পরীক্ষা করা যাবে না । ফলের ৯/০৪/২০২০ তারিখ পর্যন্ত রাজ্য সরকার চাইলেও উপসর্গ থাকা বাইরের কারোর পরীক্ষা করতে পারেনি.. ফলে স্বাভাবিক ভাবেই পরীক্ষার সংখ্যা কম ছিল !
এপ্রিলের ৯ তারিক নির্দেশ আপডেট হওয়ার লিংক;
https://www.indiatoday.in/india/story/symptomatic-people-with-no-travel-or-contact-history-to-be-tested-for-covid-19-as-icmr-updates-guidelines-1665235-2020-04-09
➖➖➖➖➖➖
৫. #তাহলে_প্রথমদিকে_রাজ্যে টেস্ট কম হওয়ার কারণ কি ?
প্রথম কারণ, কেরালায় যেহুতু ভারতবর্ষের প্রথম আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া যায় তাই কেন্দ্রীয় সরকার অনেক বেশি পরিমাণ কিট কেরালা কে দিয়েছিল । কেরালা যখন কয়েক হাজার কিট পেয়েছিল সেই সময় বাংলা পেয়েছিল মাত্র চল্লিশটা ! এবার আপনারাই বলুন টেস্ট কিটই যদি চল্লিশটা হয় তাহলে পরীক্ষা কটা হতে পারে ?
দ্বিতীয় কারণ, চল্লিশটা কিট থাকা সত্ত্বেও যখন এই রাজ্যে করোনার থাবা আস্তে আস্তে পড়তে শুরু হয়, রাজ্য সরকার অনেক বেশি স্যাম্পেল নাইসেডে পাঠাচ্ছিল । কিন্তু সেই সময় এই শান্তা দত্তের নেতৃত্বে থাকা কেন্দ্রের নাইসেড রাজ্য সরকারকে বলে এত চাপ তারা নিতে পারবে না, কারণ তাদের কাছে যথেষ্ট কিট নেই এবং যথেষ্ট কর্মী নেই! তাহলেই ভাবুন কি সর্বনেশে কান্ড ! যেই সংস্থা আজ বলছে রাজ্য সরকার যথেষ্ট স্যাম্পেল পাঠাচ্ছে না, সেই সংস্থাই একদিন বলেছিল এত স্যাম্পল তারা নিতে পারবে না ! অথচ কেন্দ্রীয় সংস্থা হয়েও কেন্দ্রের কাছে অনুরোধ করতে পারেনি তৎক্ষণাৎ যেন রাজ্যে আরো সেন্টারের অনুমোদন দেওয়া হয় !
যখন রাজ্য সরকারের বেশি স্যাম্পেল পাঠানো বিরক্ত বোধ করেছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা : লিঙ্ক:
https://www.anandabazar.com/state/coronavirus-in-india-niced-denied-do-the-corona-test-under-pressure-1.1124156
এবার আপনি বলুন, রাজ্য সরকারের জায়গায় থাকলে আপনি আর কি করতেন ??
➖➖➖➖➖➖
৬. #রাজ্যের_রেপিড টেস্ট হচ্ছে না কেন ??
প্রথমত গোটা রাজ্যে রেপিড টেস্ট শুরু করলে কিট ফুরিয়ে যাবে, কিন্তু আসল রোগী ধরা পড়বে না । কারণ এই পরীক্ষার আওতায় গোটা রাজ্যের 10 কোটি মানুষই পড়েন ! আরো বড় কথা হলো WHO রেপিড টেস্ট করার বিরুদ্ধে । এবং শুধু এই সংস্থাই নয়, ভারতবর্ষের আইসিএমআর নিজেও এই ধরনের পরীক্ষার বিরুদ্ধে । যেহেতু আমাদের কাছে আনলিমিটেড টেস্ট কিট নেই, তাই উপযুক্ত জায়গা বাদে এই পরীক্ষার কিট খরচ হলে প্রকৃত সময় তা পাওয়া যাবে না ।
তাই আইসিএমআর এর নির্দেশ বুঝেশুনে পরীক্ষা করতে হবে । ঠিক সেই নির্দেশ মেনেই বাংলা চলেছে । এবং সেই কারণেই বাংলা ভারতের মধ্যে তৃতীয় টেস্টের সংখ্যা এবং পজেটিভ রেজাল্ট এর অনুপাত এর নিরিখে । অর্থাৎ সবচেয়ে কম পরীক্ষা করে সব থেকে বেশি পজেটিভ যে রাজ্যগুলি পেয়েছে তার মধ্যে তৃতীয় রয়েছে বাংলা । কিভাবে বাংলা এই জায়গাটা পেল জানেন ? কারণ বাংলা যাকে তাকে টেস্ট করে কিট অপচয় করেনি । বিদেশ থেকে আগত মানুষ, তাদের সংস্পর্শে আসা মানুষ, করোনা আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা মানুষ, ডাক্তার, নার্স সহ সম্ভাবনাময় কেশের ক্ষেত্রে বেছে বেছে পরীক্ষা করায় বাংলা টেস্ট কিট সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পেরেছে ।
সোজা ভাষায় বললে, বাংলা টার্গেট পয়েন্ট কম মিস করেছে । এখন কোন রাজ্যের টেস্ট এর তুলনায় পজেটিভ আসার রেশিও সবচেয়ে কম জানেন ? হ্যাঁ সেটা কেরালা ! কারণ কেরালা এখন যাকে তাকে ধরে টেস্ট করছে ।
লিঙ্ক: https://www.indiatoday.in/coronavirus-outbreak/story/random-sampling-for-covid-19-a-waste-of-testing-kits-health-ministry-1666888-2020-04-14
➖➖➖➖➖➖
৭. #রেপিড_টেস্ট কি ভালো ?
রেপিড টেস্ট এর ক্ষেত্রে খুব তাড়াতাড়ি ফলাফল পাওয়া যায় । কিন্তু এটার একটি বড় সমস্যা আছে। কোন করণা আক্রান্তের শরীরে যদি নুন্যতম তিনদিন সেই ভাইরাস না থেকে থাকে, তবে এই পরীক্ষা করলেও তার শরীরে করনা পজেটিভ ধরা পড়বে না। অর্থাৎ শরীরে করোনা ঢোকার তিনদিন পরেই যদি পরীক্ষা করা হয় তবেই একমাত্র এই পরীক্ষায় করোনা ধরা সম্ভব । এখন আপনি ভাবছেন এতে সমস্যা কোথায় ?
ভাবুন আমি দেবাংশু ভট্টাচার্য, আমি গত রবিবার করুন আক্রান্ত হয়েছি সেটা আমি নিজেও জানিনা । কিন্তু আমার এলাকায় রেপিড টেস্ট শুরু হয়েছে । আমার কপালে পরল মঙ্গলবার পরীক্ষার দিন । আমি যথারীতি পরীক্ষা করলাম ! কিন্তু ফলাফলে দেখা গেল আমার করোনা হয়নি । সরকার আমার হাতে স্ট্যাম্পে লিখে দিলো আমার পরীক্ষা করা হয়ে গেছে । অর্থাৎ আমি একজন করোনা মুক্ত ব্যক্তি । কিন্তু আসলে কি আমি তাই ? রবিবার যদি আমার শরীরে কর্নার প্রবেশ ঘটে থাকে, তাহলে ন্যূনতম বুধবারের আগে এই পরীক্ষা আমার শরীরের ভাইরাস কে ধরতে পারবে না ।
তাহলে ব্যাপারটা কি দাঁড়ালো ? আমি তো সমাজে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি কারণ সরকার বলে দিয়েছে আমি রোগাক্রান্ত নই । কিন্তু আমি বা সরকার বা সমাজ কেউই জানিনা যে আমিও করোনা আক্রান্ত । ফলে সমাজে বুক ফুলে ঘুরে বেরিয়ে আমি গোটা সমাজকে আক্রান্ত করে দিতে পারি ! সেটা সরকার বা আমি নিজেও টের পাবো না !
ঠিক এমনই একটি ঘটনা ঘটেছিল কেরালায়। রিপোর্ট নেগেটিভ আসার পরে সেই ব্যক্তি মারা যান । লিংক:
https://www.indiatoday.in/india/story/kerala-man-died-test-negative-coronavirus-cremated-security-protocol-1652494-2020-03-04
এবার আশা করি আপনারা বুঝতে পেরেছেন w.h.o. কেন এই রেপিড টেস্ট এর বিরুদ্ধে ?? এই পরীক্ষা আরো ভয়ানক সমস্যার জন্ম দিতে পারে । এর একমাত্র সমাধান যাকে পরীক্ষা করা হচ্ছে সেই পরীক্ষার দিন থেকে ন্যূনতম চারদিন পাঁচ দিন পরে সেই ব্যক্তির দ্বিতীয়বার পরীক্ষা করা হোক । কিন্তু সেভাবে পরীক্ষা হচ্ছে না ! কারণ এত জনগণকে দ্বিতীয় বার পরীক্ষা করার মত কিট আমাদের দেশে নেই !
W H O রেপিড টেস্টের বিরুদ্ধে ;
https://www.indiatoday.in/india/story/symptomatic-people-with-no-travel-or-contact-history-to-be-tested-for-covid-19-as-icmr-updates-guidelines-1665235-2020-04-09
➖➖➖➖➖➖
৮. #এখন_কি_অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে ??
হ্যাঁ এখন অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে । ৯ এভ্রিল এর পরে কেন্দ্রের আইসিএমআর তাদের পরীক্ষা নীতি বদল করেছে। এখন তারা বলছে রাজ্য সরকার মনে করলে যার খুশি পরীক্ষা করতে পারে । এবং ঠিক মাত্র কয়েকদিন আগে ওই সাড়ে সাত হাজার কিট এসে পৌঁছেছে যেটাকে শান্তা দেবী 42000 বলে দাবি করেছেন !
ফলে এখন টেস্ট কিট আছে, এখন যাকে খুশি পরীক্ষা করার অনুমতিও আছে । তার উপর লকডাউন 21 দিন পেরিয়ে যাওয়ার পর রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যেসব এলাকা থেকে একের বেশি আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া গেছে সেইসব এলাকাকে মাইক্রো ম্যানেজমেন্ট এরিয়া হিসাবে ভাগ করা হবে । যেমন কথা তেমন কাজ ! এই ভাগ করার পর রাজ্য সরকার সেই এলাকাগুলোতে অ্যাক্টিভ সার্চ চালু করেছে । এই অ্যাক্টিভ সার্চ এর অর্থ হল বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা কারো জ্বর আছে কিনা, গলা ব্যথা আছে কিনা, শ্বাসকষ্ট আছে কিনা, ইত্যাদি খোঁজখবর শুরু করেছে । সেখান থেকে কাউকে পাওয়া গেলেই সরাসরি তাদের হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে এবং তাদের টেস্ট করা হচ্ছে । যেটা এতদিন করা যাচ্ছিল না কারণ কেন্দ্র বলেছিল যার তার পরীক্ষা করা যাবে না !
➖➖➖➖➖➖
ফলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই আপনারা দেখতে পাবেন রাজ্যের টেস্টের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুতরাং আপনাদের প্রত্যেকের কাছে একান্ত অনুরোধ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্য সরকারের পাশে থাকুন। এক বিচ্ছিরি চক্রান্ত রচিত হচ্ছে তার বিরুদ্ধে । তার সমস্ত পরিশ্রমকে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে । প্রত্যেক সচেতন বঙ্গবাসীর কাছে আবেদন, আপনাদের মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দাঁড়ান । নাওয়া-খাওয়া ভুলে মেয়েটা আপনাদের জন্য ছুটিহীন লড়াই করছে.. আজ এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে যদি আমি আপনি তার পাশে না দাঁড়াই, কুৎসার বিরুদ্ধে যদি সঙ্ঘবদ্ধ না হই, মেয়েটা লড়াই করার শক্তি হারিয়ে ফেলবে । আর তার শক্তি ক্ষয় মানে বাংলার ক্ষতি।
আমাদের অসহায়তার মুহূর্তে, ঝড় থেকে ভূমিকম্পে, দুর্ঘটনা থেকে বিপর্যয়ে, ব্রিজ ভাঙ্গা থেকে ভাইরাসে, লাইনচ্যুত ট্রেন থেকে খাদে পড়ে যাওয়া রাস্ট্রপতির গাড়ি বাঁচাতে, ফনি থেকে বুলবুলে, খরায়, বন্যায়, রাজ্য ভাগের আগুনের মাঝে দার্জিলিঙে; নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে মেয়েটা আমার আপনার জন্য লড়ে গেছে সব সময়। এবার আমাদের সময় তার এই ঋন মিটিয়ে দেওয়ার । আছেন তো আপনি ?
লেখা: দেবাংশু ভট্টাচার্য্য Dev
➖➖➖➖➖➖